এস এম তাজামুল | মণিরামপুর প্রতিনিধি:
যশোরের মণিরামপুর পৌরসভার চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে পরিকল্পনার অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পৌরসভার প্রাচীর ঘেঁষে বাইপাস সড়কের একপাশে ড্রেন নির্মাণ, অন্যপাশে পানি সরবরাহ লাইনের সংস্কার কাজ একসঙ্গে চলায় যানবাহন ও পথচারীদের জন্য তৈরি হয়েছে মারাত্মক দুরাবস্থা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার প্রাচীরের উত্তর পাশ দিয়ে আলিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অপর পাশে কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন মুরগীহাট, পাবলিক লাইব্রেরি, প্রভাতী বিদ্যাপীঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে খুঁড়ে রাখা হয়েছে পানি সরবরাহ লাইনের সংস্কার খাল।

গত বৃহস্পতিবার থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের মাঝ বরাবর পাথর ফেলে চলাচলের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে রেখেছে। এতে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) দুপুরের ভারী বর্ষণে খোঁড়া ড্রেনে পানি জমে তৈরি হয় বিশৃঙ্খল অবস্থা। এক বৃদ্ধ পথচারী পা পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দা (ছদ্মনাম) পলাশ বলেন,

“আমাদের এলাকায় শতাধিক পরিবারের বসবাস। কোমলমতি শিশুরা এখন বাইরে বের হতেও পারছে না। আমি আমার দুই সন্তানকে ঘরের বাইরে না যেতে বলেছি।”

অন্যদিকে স্থানীয় বড় ব্যবসায়ী ও তাজাম্মুল বোরখা ঘরের স্বত্বাধিকারী মো. তাজাম্মুল হোসেন বলেন,

“সাময়িক কষ্ট হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সব কাজই এলাকার উন্নয়নের জন্য। মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।”

সচেতন মহল মনে করেন, পরিকল্পনাহীনভাবে একসঙ্গে দুই প্রকল্প চালু করায় এই ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের দাবি, একপাশে কাজ শেষ করে অন্য পাশে শুরু করলে এমন দুর্ভোগ হতো না।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান রয়েল বলেন,

“আমরা জনগণের কাছে দুঃখিত। যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।”

তবে মণিরামপুর পৌরসভার প্রকৌশলী (এক্সইন) উত্তম মজুমদারের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের মতে, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে উন্নয়নের এই উদ্যোগ এখন ভোগান্তির প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।